বিহারীনাথ পাহাড়
যদি দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চান, যদি দার্জিলিঙ্গের ঘাটতি মেটাতে চান তাহলে বিহারীনাথ পাহাড়ে চলে আসুন। অসাধারন একটি জায়গা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য। এখানে বিহারীনাথ ছাড়াও রয়েছে আরো দুটি ছোটো পাহাড়। মোট তিনটি পাহাড় মিলে এক অসাধারণ দৃশ্যপট তৈরী হয়েছে বিহারীনাথ কে ঘিরে। বাঁকুড়ার বৃহত্তম পাহাড়টির পাদদেশ দিয়ে যে রাস্তা চলে গিয়েছে তাতে বাইকে বা চার চাকার ছোটো গাড়ী বা বাসে ভ্রমণ এক অনন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার শিহরণ জাগাবেই। বিহারীনাথ পাহারের নিচে একটি জলাধাধার নির্মান করা হয়েছে দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে।পাহাড়ে আছে একটি শিব মন্দির। পুজো দিতে পারেন। সামনেই দামোদর নদ। টোটো ভাড়া করে ঘুরে আসতেই পারেন। এখানে থাকার লজ আছে বেশ কয়েকটি। খাওয়ার দাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে এই সব লজ গুলোতে।
বিহারীনাথ নামটি এসেছে এখান থেকে দু কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিহারি গ্রামের নাম থেকে যেখানে মন্দিরের সেবায়ত ও পূজারীরা বসবাস করেন। আবার অনেকের মতে বিহারীনাথ নামটি এসেছে বিহারী র বিহার থেকে বিহার বলতে ভূতপ্রেতদের বিহার , আর সেইসব বিহারীদের নাথ যিনি সেই শিবের নাম থেকে। বিহারীনাথ অর্থাৎ ভোলানাথের মন্দির, হনুমানের মন্দির, কালীর মন্দির
৩০
বর্তমান। কথিত আছে কাশীপুরের রাজাকে ভোলানাথ স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন যে তিনি স্বয়ং প্রকট হয়েছেন বিহারীনাথে। তারপর কাশীপুরের রাজা তা সুন্দর ভাবে সজ্জিত করেন। মেলা চলে অনেকদিন ধরে। শিবরাত্রি মেলা।
বিহারীনাথের উচ্চতা প্রায় ১৪৮০ ফুট। বিহারীনাথ ছাড়াও আরো চারটি পাহাড় রয়েছে। লেদি, শরপাহাড়ী, টুংরি, শালিমার।প্যালিওলিথিক যুগের অস্ত্রশস্ত্র আবিস্কৃত হওয়ার পরে পুরাতাত্বিকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বিহারীনাথ। ঝরনা, জঙ্গল, উপত্যকা, অনতিদূরের দামোদর আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে বিহারীনাথকে।বিহারীনাথ মন্দিরকে নিয়ে এক ইতিহাস আছে। কাশীপুরের রাজা স্বপ্নাদেশ পান। গাভী এসে দুগ্ধ দিয়ে স্নান করায় শিবলিঙ্গটি নিজের থেকেই।কাশীপুরের রাজাও স্বচক্ষে দেখেন দৃশ্যটি। বিহারীনাথ মন্দিরের পার্শ্বনাথ ও বিষ্ণুর সমন্বয়ে নির্মিত দ্বাদশভূজ মূর্তিটি ধর্মসহিষ্ণুতার সাক্ষ্য বহন করে। মন্দিরের উল্টোদিকের পুকুরটিতে শুধুমাত্র ডুব দেওয়া যায়। সাবান বা তেল মেখে ডুব দেওয়া যায় না।
আমঝরনা একটি ঝরনা যা আমগাছের নিচে অবস্থান করছে। ঝরনাটির জল পান করলে না কি অনেক রোগমুক্তি ঘটে। কষ্ট করে হলেও জায়গাটি দেখে আসবেন অবশ্যই। আছেন বিহারীবাবা। আছে তার লাগান গাছ।
বিহারীনাথের উচ্চতা ৪৪৭.৪ মিটার বা ১৪৬৯ ফুট। বিহারীনাথ পাহাড় জৈন ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম প্রচার ও
৩১
উপাসনার কেন্দ্র ছিল। গ্রামগুলিতে সারক(শ্রাবক জৈন শব্দ) গোষ্ঠীর বসবাস ছিল। দ্বাদশ হাত নাগছত্র বিশিষ্ট ল্পকেশ্বর বিষ্ণু পাওয়া গেছে যা এখন শিব মন্দির চত্ত্বরে সংরক্ষিত। পাহাড়ের প্রতিবেশী গ্রাম গুলিতে যেম্ন দয়ালপুর, আঁতরা ও বলরামপুরে প্রত্ননিদর্শনের সন্ধান মিলেছে।
১৮৬৭ খৃষ্টাব্দে ভি বলই বিহারীনাথ পাহাড়ের ১১ মাইল দূরবর্তী গোপিনাথ গ্রাম থেকে কয়েকটি প্রত্নশ্মর আয়ুধ আবিস্কার করেন। শুশুনিয়া পরিমন্ডলে বাঁকাজোড়, চাঁদরা, ধনকোরা, বিসিন্দা, বনাশুড়িয়া গ্রাম থেকে নবাশ্মর আয়ুধ আবিষ্কৃত হয়েছে।
কীভাবে আসবেনঃ-
মধুকুন্ডা কিম্বা শালতোড়া হয়ে আসা ভালো। দিশেরগড় ঘাট পেরিয়ে মধুকুন্ডা, তারপর মধুকুন্ড থেকে বিহারীনাথ। অথবা শালতোড়া থেকে বিহারীনাথ।পুরুলিয়া থেকে যদি আসেন শর্বরী মোড় থেকে ডানদিকে মোড় নিয়ে মধুকুন্ডা আসুন, তারপর বিহারীনাথ পাহাড়। দূর্গাপুর, রানীগঞ্জ বা কোলকাতা দিক থেকে এলে শালতোড়া পৌঁছান, সেখান থেকে বিহারীনাথ।
No comments:
Post a Comment