Wednesday, January 14, 2026

মুকুটমণিপুর

 

মুকুটমণিপুর

 

কংসাবতী যা কাঁসাই বা কোসী নামেও পরিচিত, ছোটোনাগপুর মালভূমিতে উৎপত্তি লাভ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং মেদনিপুর এর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। পশ্চিম বঙ্গের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে মহৎ উদ্দ্যেশ্য রূপায়নের তাগিদে ১৯৫৬ সালে খাতড়া মহকুমা হতে অনতি ১০ কিলোমিটার দূরে মুকুটমনিপুর জল সংরক্ষণাগারের পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৃত্তিকা নির্মিত জলাধার বাঁধ মুকুটমনিপুর ৮০০০ বর্গকিলোমিটার জায়গার সেচসমস্যার সমাধান করে। পাহাড়শৃংখল, অপার বিস্তৃত সমুদ্রসম নদীপথের অবরুদ্ধ  মাটির বাঁধ, বৃক্ষরাজির অসীম বিস্তৃতি প্রকৃতিপ্রেমিক যেকোনো ব্যক্তিরই হৃদয় আকৃষ্ট করে বারবার, বিহ্বল হয়ে ওঠে প্রান। সবরকম প্রকৃতির রূপের অপূর্ব মেলবন্ধন

 

জলাধারের ভেতরে প্রাচীন মন্দির

প্রায় ২০০ বছরের পুরানো মন্দিরের দর্শন পাওয়া যায় যখন জলস্তর নেমে যায়।

 

 

 

১৩

 

বনপুকুরিয়া ডিয়ার পার্ক

মুকুটমনিপুর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে বনপুকুরিয়া ডিয়ার পার্ক (বনপুকুরিয়া হরিণ উদ্যান) অবস্থান করছে । আপনাকে

নৌকা ভাড়া করে যাবার পর হেঁটে বা রিক্সা ভাড়া করে পৌছে যান ডিয়ার পার্কে। বাইকে বা সাইকেলেও নদীর বিপরীত স্রোতের দিকে নদীর বামতীর বরাবর হেঁটে, সাইকেলে, মটর সাইকেলেও যেতে পারেন যদি অনুমতি থাকে।

 

সোনাঝুরি ন্যাচার পার্ক

সোনাঝুরি পাহাড়ি অঞ্চল। সুন্দর জায়গা। সরকারি আবাস বর্তমান।

 

মুসাফিরানা

পাহাড়ি পরিবেশ, দুর্দান্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। এখানে আছে অপ্রাকৃতিকভাবে তৈরী সহজপাঠের আদলে নির্মিত কিছু নির্মানশৈলী। আছে একটি ওয়াচটাওয়ার যেখান থেখান থেকে খুব সুন্দর ভিউ পাবেন মুকুটমনিপুর ড্যামের। তবে এখানে এই প্লাস ঐ করে দৃশ্যদূষণও দেখতে পাবেন অনায়াসে। কিছু পর্যটকদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে এই অভ্যাস ত্যাগের জন্য।

 

 

১৪

 

 

পরেশনাথ শিব মন্দির

ছোটো পাহাড়ের ওপর শিবমন্দির অবস্থিত। এই লিঙ্গের একদিকে সুর্যকিরণ উদ্ভাসিত করছে এবং অপরদিক অন্ধকারে পর্যবসিত হচ্ছে। নীচে নীল বারিধারা বর্তমান। পার্শনাথের মূর্তি দেখে, জৈন মন্দির ছিল তা অনায়াসে বলা

যায়। আছে শিব মন্দির। সামনেই আছে দুটি ষাড়। ওঠার সিড়িটিও ভালো, বিনা পাহাড়শ্রমেই উপরে উঠা যায়। এখান থেকে অতীব সুন্দরী মুকুটমনিপুর কে অবলোকন করা যায়। দেখা যায় কুমারী আর কংসাবতীর নিদারুন সুন্দর সঙ্গমস্থল।  

 

বরোঘুটু পাহাড়

অনতি উচ্চ বরোঘুটু পাহাড় এবং তার চতুর্দিকের অনাবিল সৌন্দর্য এক অভিভূত প্রাকৃতিক অনুভূতির সঞ্চরণ করে। পাহাড়ের শিখর হতে পশ্চিম দিকে দৃষ্টি গেলে , চোখে পড়বে কংসাবতী ও কুমারীর সংযোগস্থল। এ যেন সমুদ্রে এসে পাহাড়ের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়। যারা ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন, যারা ভূতত্ত্ববিদ্যা নিয়ে গবেষণা করছেন তারা অনায়াসে চলে আসতে পারেন জায়গাটিতে ; পেয়ে যাবেন রসদ।

 

No comments:

Post a Comment

রঙ্কিণীতলা

  রঙ্কিণীতলা সিমলাপালের লক্ষ্মীসাগর অঞ্চলের শ্যামপুর মৌজায় লোকদেবী রঙ্কিণীদেবীর মন্দির অবস্থিত। ১৯৪২ খৃষ্টাব্দে রাজা চৈতন্য সিংহ চৌধুরী ...