পর্যটনগত বৈচিত্র্যে শ্রেণীবিভাগ
পর্যটনগত বৈচিত্র্যের দিক দিয়ে বাঁকুড়াকে পাঁচভাগে ভাগ করা যায়।
১) বাঁধময় এবং নদীময় বাঁকুড়া ২) পাহাড়ময় বাঁকুড়া ৩) জঙ্গলময় বাঁকুড়া ৪) মন্দিরময় বাঁকুড়া ৫) ইতিহাসময় বাঁকুড়া এবং ৬) অন্যান্যে বাঁকুড়া।
১) বাঁধময় এবং নদীময় বাঁকুড়াঃ- মুকুওটমনিপুর ড্যাম, গাংদুয়া ড্যাম, কদমদেউলীর ড্যাম, তালবেড়িয়ার ড্যাম এবং বিহারীনাথ পাহাড়ের নিকট অসমাপ্ত ড্যাম বাঁকুড়াকে একদিকে যেমন ভ্রমনবিলাসী মানুষকে আনন্দ দেয় অন্যদিকে সেচের জলেরও সরবরাহ করে। আর বঁকুড়া জুড়ে রয়েছে অনেক নদী ও উপনদী। কংসাবতী, শিলাবতী, দামোদর, দ্বারকেশ্বর নদী ছাড়াও রয়েছে কুমারী নদী, জয়পন্ডা, গন্ধেশ্বরী, শালি প্রভৃতি উপনদীগুলিও বাঁকুড়া সৌন্দর্য্যবর্ধনের সাথে সাথে জলের সরবরাহ করে চাষের কাজে অভূতপূর্ব সাহায্য করে আসছে।
২) পাহাড়ময় বাঁকুড়াঃ- ছোটনাগপুর মালভূমির অনর্গত বাঁকুড়াতে স্থানে স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ছোটবড় পাহাড়। উচ্চতম বিহারীনাথ, দ্বিতীয় উচ্চতম শুশুনিয়া, মশক, কোড়ো, বামনিসিনি, বড়দি পাহাড়ে বাঁকুড়া হয়েছে পাহাড়সমৃদ্ধ পর্যটনক্ষেত্র।
৩) জঙ্গলময় বাঁকুড়াঃ- বাঁকুড়া শুধু রুক্ষশুষ্ক নয়। বাঁকুড়াকে ঘিরে রেখেছে জঙ্গল। সাউতানের জঙ্গল, ঝিলিমিলি-রানীবাঁধের জঙ্গল, জয়পুরের জঙ্গল এবং জ্বালার জঙ্গল বাঁকুড়াকে যেমন সজীব ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে, ঠিক তেমনই পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
৪) মন্দিরময় বাঁকুড়াঃ- শিবমন্দির, হরিমন্দির, মন্সা মন্দির, জৈনমন্দির, দরগা প্রভৃতি ধর্ম সহিষ্ণুতার সাক্ষ্য বহন করে। হিন্দু মন্দিরের স্থাপত্য শিল্পকলা এক অন্য মাত্রা বহন করে।
৫) ইতিহাসময় বাঁকুড়াঃ- ছাতনা, বিষ্ণুপুর, অম্বিকানগর, সিমলাপাল প্রভৃতি জায়গাগুলির ইতিহাস বিভিন্ন রাজত্বের বিবরণ দেয়।
৬) অন্যান্যে বাঁকুড়াঃ- খড়ির খনি, অভ্রের খনি প্রভৃতি জায়গাগুলি অন্য স্বাদ এনে দেয় পর্যটন ক্ষেত্রে।
No comments:
Post a Comment